দক্ষিণবঙ্গে “হিন্দু বাঁচাও আন্দোলন”: অস্তিত্ব রক্ষার নতুন লড়াই ও গোবিন্দ প্রামাণিকের হুঙ্কার
বিশেষ প্রতিবেদন: রঞ্জিত বর্মণ | তারিখ: ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
বিশেষ ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জনপদে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা শঙ্কা আর বঞ্চনার স্তূপ আজ এক বিশাল আগ্নেয়গিরিতে রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় হামলা, মন্দির ভাঙচুর এবং ভূমি দখলের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো সাধারণ হিন্দুদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। এই চরম সংকটময় মুহূর্তে হিন্দু সমাজের অস্তিত্ব রক্ষা এবং ন্যায্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট: কেন এই জাগরণ?
গত কয়েক দশকে সংখ্যালঘু হিন্দুরা নানামুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুরসহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে হিন্দুদের জনসংখ্যার হার হ্রাস পাওয়া এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া একটি জাতীয় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক ঘোষণা করেছেন যে, এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। হিন্দু সমাজকে তার প্রাপ্য মর্যাদা নিয়ে টিকে থাকতে হলে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
মহাজোটের মূল দাবি ও লক্ষ্যসমূহ
- সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন: হিন্দুদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করতে হবে।
- মন্ত্রণালয় গঠন: সংখ্যালঘু বিষয়ক একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করে বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
- বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ: বিগত বছরগুলোতে মন্দিরে হামলা ও ভূমি দখলের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।
- প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ: জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হিন্দুদের জন্য সংরক্ষিত আসন এবং আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
অরাজনৈতিক ও ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম
আয়োজক রঞ্জিত বর্মণ এবং মহাজোটের নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এটি কোনো দলীয় রাজনীতির হাতিয়ার নয়। এটি হিন্দু সমাজের অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলন। নেতৃবৃন্দের মতে, দক্ষিণবঙ্গ সবসময়ই বীরদের চারণভূমি। এখান থেকেই শুরু হবে বৈষম্যের বিরুদ্ধে জাগরণ। যদি আমরা আজ ঐক্যবদ্ধ হতে না পারি, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিজেদের শিকড় হারাবে।
“জেগে ওঠো হে হিন্দু সমাজ! নিজের অধিকার বুঝে নিতে মাদারীপুরের কদমবাড়ী চলো!”
