বিংশতম বার্ষিক শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞ ও অষ্টকালীন লীলাকীর্তন মহোৎসব–২০২৬
পরম করুণাময় শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ ও শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জয়
বিংশতম (২০তম) বার্ষিক শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞ ও অষ্টকালীন লীলাকীর্তন মহোৎসব–২০২৬
সার্বজনীন শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির, মরকুন পশ্চিমপাড়া, টঙ্গী, গাজীপুর
অনুষ্ঠানস্থল: সার্বজনীন শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির
বাগান ও মাজার সংলগ্ন, মরকুন পশ্চিমপাড়া
ডাকঘর: টঙ্গী-১৭১০, থানা: টঙ্গী পশ্চিম, জেলা: গাজীপুর
মহোৎসবের বিস্তৃত পরিচিতি
গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকার মরকুন পশ্চিমপাড়ায় অবস্থিত সার্বজনীন শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিংশতম (২০তম) বার্ষিক শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞ ও অষ্টকালীন লীলাকীর্তন মহোৎসব–২০২৬। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তিরস এবং বৈষ্ণব আচার-আচরণের সমন্বয়ে এই মহোৎসবটি পরিণত হয়েছে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের এক গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক আয়োজন হিসেবে।
শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ এবং শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর পবিত্র নামস্মরণ, গুণকীর্তন, লীলাকীর্তন এবং শ্রীহরিনামের মাধ্যমে এখানে এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি হবে। স্থানীয় ভক্তবৃন্দের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও বহু কীর্তনীয়া, শ্রোতা, সহায়ক এবং শুভানুধ্যায়ী এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করবেন। ফলে পুরো অনুষ্ঠানটি একটি বৃহৎ ধর্মীয় মিলনমেলায় রূপ নেবে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় ঐতিহ্যকে ধরে রেখে নতুন প্রজন্মের কাছে ভক্তি, শুদ্ধাচার ও সমন্বয়ের বার্তা পৌঁছে দিতেই এ আয়োজন। বিশেষ করে মহানামসংকীর্তনের ধ্বনি, ভোরের নাম, দধিভাণ্ড ভঞ্জন, কুঞ্জভঙ্গ, নগর কীর্তন, ভোগরাগ, মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং অষ্টকালীন লীলাকীর্তন—সবকিছু মিলিয়ে এই উৎসব হবে আধ্যাত্মিক আনন্দের এক পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা।
অনুষ্ঠানের ধর্মীয় তাৎপর্য
মহানামযজ্ঞ ও লীলাকীর্তন কেবল একটি উৎসব নয়, এটি বৈষ্ণবধর্মের অন্তর্নিহিত ভক্তিমার্গের প্রকাশ। শ্রীহরিনাম সংকীর্তন মানুষের অন্তরকে নির্মল করে, মনকে প্রশান্ত করে এবং ভক্তি, প্রেম ও নম্রতার পথে পরিচালিত করে। শাস্ত্রীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী নামসংকীর্তনই কলিযুগে মানুষের মুক্তি ও আত্মশুদ্ধির অন্যতম সহজ, সরল এবং সর্বোচ্চ পথ বলে বিবেচিত।
তাই এই মহোৎসবে যারা অংশ নেবেন, তারা শুধু একটি ধর্মীয় আচার পালন করবেন না, বরং ভক্তির একটি জীবন্ত পরম্পরার সঙ্গে যুক্ত হবেন। গীতা পাঠ, কীর্তন, নামযজ্ঞ, লীলাকীর্তন এবং প্রসাদ সেবনের মাধ্যমে সমাজে একতা, শুদ্ধতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সনাতন সংস্কৃতির নবজাগরণ ঘটবে।
সময়সূচী (বাংলা ১৪৩২ ও ইংরেজি ২০২৬)
২৫ চৈত্র (৭ এপ্রিল, মঙ্গলবার): সন্ধ্যা ৭:০০ ঘটিকায় শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। পাঠক হিসেবে থাকবেন ভক্তবর শ্রী ধর্ম কুমার দাস। রাত ১২:০১ ঘটিকায় গীতা পাঠ শেষে শ্রীশ্রী মহানামযজ্ঞের শুভ অধিবাস ও মঙ্গলঘট স্থাপন করা হবে। অধিবাস কীর্তন পরিবেশন করবেন শ্রী ব্রজেন্দ্র চন্দ্র দাস এবং স্থানীয় সকল কীর্তনীয়া ভক্তবৃন্দ।
২৬, ২৭ ও ২৮ চৈত্র (৮, ৯ ও ১০ এপ্রিল; বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার): অখণ্ড শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানামসংকীর্তন অনুষ্ঠিত হবে ২৪ প্রহরব্যাপী। এই তিন দিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন নামকীর্তন, ভজন, ধ্বনি-প্রতিধ্বনি এবং ভক্তিসম্মিলনের মধ্য দিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণ ভক্তিরসপূর্ণ হয়ে উঠবে।
< ২৯ চৈত্র (১১ এপ্রিল, শনিবার): ভোরবেলা নাম সমাপন ও দধিভাণ্ড ভঞ্জন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর কুঞ্জভঙ্গ ও নগর কীর্তন অনুষ্ঠিত হবে। দুপুরে শ্রীশ্রী মহাপ্রভুর ভোগরাগ অন্তে উপস্থিত সকলের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।
৩০ চৈত্র (১২ এপ্রিল, রবিবার): শুরু হবে অষ্টকালীন লীলাকীর্তন। এই পর্যায়ে শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ ও শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর লীলামৃত কীর্তনের মাধ্যমে ভক্তরা এক গভীর আধ্যাত্মিক আনন্দে নিমগ্ন হবেন।
নামসুধা পরিবেশনায় প্রখ্যাত সম্প্রদায়সমূহ
এই বছরের মহানামযজ্ঞে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রখ্যাত কীর্তনীয়া সম্প্রদায়সমূহ অংশগ্রহণ করবেন। তাঁদের ভক্তিময় পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে আরও সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত করে তুলবে।
- বাসুদেব সম্প্রদায় – যশোর
- লক্ষ্মীপ্রিয়া সম্প্রদায় – মাগুরা
- জয় নিতাই সম্প্রদায় – ময়মনসিংহ
- শিল্পী সম্প্রদায় – গোপালগঞ্জ
- শ্রীগুরু সম্প্রদায় – রাজবাড়ী
- রাধাকৃষ্ণ মন্দির সম্প্রদায় – মরকুন, টঙ্গী
এই সকল সম্প্রদায়ের সম্মিলিত কীর্তন, সুর, তাল এবং শুদ্ধ ভক্তিভাব পুরো উৎসবকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষত স্থানীয় কীর্তনীয়া ভক্তবৃন্দের অংশগ্রহণ আয়োজনটির সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আত্মিক সংযোগকে আরও গভীর করবে।
পরিচালনা ও কার্যকারী কমিটি
প্রধান পৃষ্ঠপোষক: শ্রী গণেশ চন্দ্র দাস
উপদেষ্টা মণ্ডলী:
শ্রী শ্যামল চৌধুরী, শ্রী স্বপন চৌধুরী, শ্রী দুলাল চন্দ্র দাস, শ্রী চিত্তরঞ্জন দাস, শ্রী রণজিৎ কুমার সরকার, শ্রী রাধেশ্যাম চন্দ্র দাস, শ্রী অর্ধেন্দু চন্দ্র দাস, শ্রী সুবল চন্দ্র দাস, শ্রী অমল চন্দ্র ঘোষ, শ্রী প্রমেশ্বর পাল, শ্রী কবীর চন্দ্র দাস, শ্রী শংকর চন্দ্র দাস, শ্রী সুধীর চন্দ্র দাস, শ্রী বিমল চন্দ্র দাস, শ্রী গৌরাঙ্গ চন্দ্র সরকার (বিজিৎ), শ্রী স্বপন চন্দ্র সরকার (গোসাই), শ্রী পলাশ চন্দ্র দাস, শ্রী অলক চন্দ্র দাস, শ্রী নারায়ণ চন্দ্র সিংহ।
পৃষ্ঠপোষকবৃন্দ:
শ্রী শংকর চন্দ্র দাস, শ্রী সুবল চন্দ্র দাস, শ্রী সুশীল চন্দ্র দাস, শ্রী অশোক কুমার নাথ, শ্রী বিমল চন্দ্র পাল, শ্রী অনিমেষ দাস, শ্রী প্রদীপ কুমার সাহা, শ্রী গৌতম চন্দ্র সরকার, শ্রী খোকন কুমার ঘোষ, শ্রী দীপক কুমার সরকার, শ্রী রতন চন্দ্র দাস, শ্রী নিলয় কুমার বৈশ্য, শ্রী অনিত কুমার ভৌমিক, শ্রী বিমল কুমার সাহা, শ্রী কমল কান্তি সরকার, শ্রী অতুল চন্দ্র দেবনাথ, শ্রী পরিমল কুমার শীল, শ্রী জয়দেব চন্দ্র দাস, শ্রীমতী কেতু রানী দাস, শ্রী পলাশ চন্দ্র বিশ্বাস, শ্রী রাধল চন্দ্র সরকার, শ্রী বিপুল চন্দ্র দেবনাথ, শ্রী বিজয় কুমার দাস, শ্রী অতিশ চন্দ্র দাস।
কার্যকারী কমিটি:
সভাপতি: শ্রী রানী কুমার দাস (মোবাইল: ০১৭১২-০১৬১১৪)
সাধারণ সম্পাদক: শ্রী স্বপন চন্দ্র দাস (মোবাইল: ০১৯১৩-৫২০৩৯২)
পরিচালক: আশীষ দত্ত
প্রচার ও প্রকাশনা: শ্রী সুনীল চন্দ্র দত্ত (ঝুলু)
অন্যান্য সদস্যবৃন্দ:
গোপাল চন্দ্র সরকার, মহেশ চন্দ্র দাস, শ্যামল দত্ত, রামায়ণ সরকার, বাদল চন্দ্র শীল, গোপাল চন্দ্র বর্মন, মন্টু মালাকার, বিধান চন্দ্র দাস, অরূপ কুমার সেন, আকাশ ঘোষ, রতন চন্দ্র দাস, রণজিৎ কুমার দাস, তপন চন্দ্র দত্ত, সুব্রত দাস, সঞ্জিত মজুমদার, শ্রীবাস চন্দ্র দাস, শ্যামল চন্দ্র মালাকার প্রমুখ।
বিজ্ঞাপন ও বিশেষ সৌজন্য
আশীষ জুয়েলার্স:
সেকশন নং- সি/১১, সোনালী আর্কেড (২য় তলা), টঙ্গী বাজার, গাজীপুর।
ফোন: ০২-৯৮১২৭০৪, ০১৮১৬-৯৬৩৮৮২, ০১৭২২-৪৭৬২৭০।
স্বর্ণালী জুয়েলার্স ওয়ার্কশপ:
প্রোপ্রাইটর: অপু চন্দ্র দাস। ৮ নং নাসির সরকার মার্কেট, টঙ্গী বাজার, গাজীপুর।
মোবাইল: ০১৮১৬-৯৬৩৮৮২।
মেসার্স সোনিয়া টেক্সটাইল:
মরকুন, টঙ্গী, গাজীপুর।
বাণী ও শ্লোক
“হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে”
“হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে”
“মাতৃদেব ভব, পিতৃদেব ভব, আচার্য্য দেব ভব”
“জীবের স্বরূপ হয় কৃষ্ণের নিত্য দাস”
“সাধ্য সাধন তত্ত্ব এই কৃষ্ণ নাম সংকীর্তন”
এই বাণীগুলো শুধুমাত্র শ্লোক নয়, বরং জীবনের চলার পথে নৈতিকতা, নম্রতা, ভক্তি ও আত্মনিবেদনের আদর্শ হিসেবে সমাজকে পথ দেখায়। বিশেষত ভক্তিমূলক পরিবেশে এ সকল বাণী মানুষের মনে স্থায়ী প্রভাব ফেলে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা
আয়োজক কমিটির প্রত্যাশা, এবারের মহোৎসব সর্বমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলবে এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক স্মরণীয় ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হবে। নামযজ্ঞ, কীর্তন, গীতা পাঠ ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভক্তি-সংস্কৃতির প্রসার ঘটবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এছাড়া এই মহোৎসব তরুণ প্রজন্মকে সনাতন ধর্মীয় আদর্শ, কীর্তন সংস্কৃতি, শাস্ত্রচর্চা এবং ভক্তির পথের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেবে। স্থানীয়ভাবে এমন একটি বৃহৎ আয়োজন হওয়ায় এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
লেখক: রঞ্জিত বর্মন
