শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ ও সনাতন ধর্মচেতনা

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ ও সনাতন ধর্মচেতনা

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ ও সনাতন ধর্মচেতনা

আধ্যাত্মিক উন্নতির সোপান

লেখক: রঞ্জিত বর্মন

সনাতন ধর্মে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা কেবল একটি ধর্মগ্রন্থ নয়, এটি জীবন যাপনের এক পূর্ণাঙ্গ দর্শন। পূর্বপুরুষদের স্মৃতি রক্ষা এবং আত্মিক প্রশান্তির লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নবীনগরে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এক মহতী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ অনুষ্ঠান। ‘গীতার আদর্শে জীবন গড়ি’—এই শাশ্বত বাণীকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

অনুষ্ঠানের সময়সূচী ও স্থান

৩ দিন ব্যাপী এই ২য় বার্ষিক মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানটি আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ (শুক্রবার, শনিবার ও রবিবার) অনুষ্ঠিত হবে।

স্থান: ভুবন বর্মণের বাড়ি।

আয়োজনে: আইতলা পশ্চিমপাড়া, লক্ষ্মী নারায়ণ ও লোকনাথ মন্দির প্রাঙ্গণ, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া।

শাস্ত্রীয় পরিবেশনায় থাকছেন

তিন দিনব্যাপী এই আধ্যাত্মিক সভায় গীতার অমৃত বাণী পাঠ ও ব্যাখ্যা করবেন প্রাজ্ঞ পণ্ডিতগণ:

  • প্রথম দিন: শ্রী রঞ্জিত চন্দ্র সূত্রধর (গোস্বামী), নবীনগর।
  • দ্বিতীয় দিন: গোস্বামী শ্রী উজ্জ্বল চক্রবর্তী, নবীনগর।
  • তৃতীয় দিন: শ্রী ভোলানাথ চক্রবর্তী, নরসিংদী।

হিন্দু শাস্ত্রের আলোকে গীতা পাঠের গুরুত্ব

হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, গীতা পাঠ করা এবং এর মর্মার্থ উপলব্ধি করার মাঝে লুকিয়ে আছে জীবনের সকল সমস্যার সমাধান। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে উপলক্ষ করে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে যে উপদেশ দিয়েছিলেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

১. পূর্বপুরুষদের স্মরণ (তর্পণ ও শান্তি): শাস্ত্রে বলা হয়েছে, বংশধররা যদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বা গীতা পাঠ শোনেন, তবে তা পিতৃপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় সহায়ক হয়।

২. কর্মযোগ ও ভক্তিযোগ: গীতা আমাদের শেখায় ফলের আশা না করে কর্ম করতে। এই ধরনের অনুষ্ঠানে শাস্ত্রীয় আলোচনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ভক্তি ও কর্মের সমন্বয় শিখতে পারেন।

৩. সামাজিক ঐক্য: এটি আমাদের “বসুধৈব কুটুম্বকম্” (সারা বিশ্বই এক পরিবার) এই নীতি মনে করিয়ে দেয়।

হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ কৃষ্ণকৃষ্ণ হরেহরে
হরেরাম হরেরাম রামরাম হরেহরে 🙏💜

সহযোগিতায়: আইতলা সনাতনী যুব উন্নয়ন সংগঠন

আইতলা সনাতনী যুব সংগঠন একটি শক্তিশালী সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন, যা গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সুচিন্তিত দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হয়।

সংগঠনের লক্ষ্য ও আদর্শ:

এই সংগঠনের মূল কাজ হলো সমাজের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে সক্রিয় সহযোগিতা করা এবং সকল সনাতনীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা। সনাতন ধর্ম প্রচার এবং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দিব্য জ্ঞান সকলের হৃদয়ে স্থাপন করাই এই সংগঠনের মূল ব্রত।

স্থাপিত: ২০২১ সাল।
পরিচালনা কেন্দ্র: আইতলা পশ্চিম পাড়া (মনবাসি বর্মন) বাড়ির গীতা স্কুল।

সদস্যবৃন্দ (মোট ৪৬ জন):

১) রঞ্জিত
২) পংকজ
৩) দিপু
৪) মুতিলাল
৫) হিরালাল
৬) অপু
৭) আকাশ
৮) রাকাশ
৯) সনজিত
১০) মিটন
১১) গোপাল
১২) খোকন
১৩) টিটন
১৪) রাখাল
১৫) দিলীপ
১৬) দিপক ছোট
১৭) চন্দন
১৮) সজিত
১৯) বিপ্লব
২০) সমির
২১) উত্তম
২২) লিটন
২৩) সুধন
২৪) দিপক বড়
২৫) বিমল
২৬) সুজিত
২৭) অজিত/রঞ্জিত
২৮) সুকুমার
৩০) মহাদেব
৩১) কমল
৩২) বিকাশ বড়
৩৩) বিকাশ ছোট
৩৪) অমন
৩৪) তাপস
৩৫) শান্ত
৩৬) সংকর
৩৭) অন্তর
৩৮) রঞ্জন
৩৯) সুজন
৪০) সজল
৪১) সুনিল
৪২) রিপন
৪৩) শ্যামল
৪৫) প্রসনজিৎ
৪৬) সুকোমল

ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে গীতার বাণী শ্রবণ করুন। “ওঁ তৎ সৎ”

© ২০২৬ আইতলা সনাতনী যুব উন্নয়ন সংগঠন | নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া।

Leave a Comment