শ্রী শ্রী লোকনাথ উপাসনা আশ্রম ও মন্দির, দোগাছিয়া, আড়াইহাজারে ২৪ প্রহর ব্যাপী অখণ্ড তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন মহোৎসব

শ্রী শ্রী লোকনাথ উপাসনা আশ্রম ও মন্দির, দোগাছিয়া, আড়াইহাজারে ২৪ প্রহর ব্যাপী অখণ্ড তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন মহোৎসব

শ্রী শ্রী লোকনাথ উপাসনা আশ্রম ও মন্দির, দোগাছিয়া, ডাকঘর ও থানা: আড়াইহাজার, জেলা: নারায়ণগঞ্জ-এর উদ্যোগে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এক মহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, ধর্মীয় আলোচনা, ঋষি সম্মেলন এবং ২৪ প্রহর ব্যাপী অখণ্ড তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন মহোৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো আশ্রম প্রাঙ্গণ ভরে উঠবে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিক আবহে।

এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আদর্শকে স্মরণ করা, ভক্তদের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করা এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবসেবার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। প্রকাশিত আমন্ত্রণপত্র ও ছবিতে দেখা যায়, এটি একটি সুসংগঠিত ও বৃহৎ পরিসরের আয়োজন, যেখানে স্থানীয় ভক্তবৃন্দ, কীর্তনীয়া দল এবং পরিচালনা কমিটির সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।

অনুষ্ঠানের সময়সূচী

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২৪শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৭ই এপ্রিল ২০২৬ ইং মঙ্গলবার দুপুর ২:৩০ মিনিটে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এই অধিবেশনে পাঠ করবেন পণ্ডিত সঞ্জয় চক্রবর্তী, ঢাকা। গীতা পাঠের মাধ্যমে ধর্ম, কর্ম, ভক্তি ও আত্মিক উন্নতির গভীর শিক্ষা ভক্তদের সামনে উপস্থাপিত হবে।

২৫শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৮ই এপ্রিল ২০২৬ ইং বুধবার শুভ অধিবাসের মাধ্যমে ২৪ প্রহর ব্যাপী অখণ্ড তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তনের সূচনা হবে। এরপর ২৬শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৯ই এপ্রিল ২০২৬ ইং বৃহস্পতিবার থেকে মূল সংকীর্তন শুরু হবে এবং ২৮শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১১ই এপ্রিল ২০২৬ ইং শনিবার সকালে দধি মঙ্গল ও সমাপ্তির মধ্য দিয়ে মহোৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে।

উৎসব চলাকালীন প্রতিদিন দুপুর ও রাতে ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। ফলে আগত ভক্ত, অতিথি ও স্থানীয় জনগণ একত্রে ভক্তিভাবে প্রসাদ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

অভ্যাগত কীর্তনীয়া দল

এ মহোৎসবে দেশবরেণ্য একাধিক কীর্তনীয়া দল অংশগ্রহণ করবে বলে আমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ আছে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ সম্প্রদায়, খুলনা; শ্রী শ্রী লোকনাথ সম্প্রদায়, বরিশাল; শ্রী শ্রী গৌর নিতাই সম্প্রদায়, গোপালগঞ্জ; শ্রী শ্রী অমৃত বাণী সম্প্রদায়, বাগেরহাট; শ্রী শ্রী মা তারা সম্প্রদায়, সাতক্ষীরা; এবং শ্রী শ্রী কৃষ্ণপ্রিয়া সম্প্রদায়, যশোর।

বিভিন্ন অঞ্চলের কীর্তনীয়া দলের উপস্থিতি এই আয়োজনকে আরও বর্ণিল করে তুলবে। সমবেত নামসংকীর্তন, হারমোনিয়াম, খোল, করতাল ও ভক্তিময় কণ্ঠস্বর আশ্রমের পরিবেশকে এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহে পরিণত করবে।

আয়োজন ও কমিটি

প্রকাশিত পত্রিকা অনুযায়ী এই মহোৎসব পরিচালনায় একটি সুসংগঠিত কমিটি দায়িত্ব পালন করছে। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন জনাব আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবু, মাননীয় সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ-২। উদ্বোধক হিসেবে শ্রী আনন্দ কুমার দাস এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে শ্রী অজয় কুমার রায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সভাপতি শ্রী প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, সহ-সভাপতি শ্রী বিমল চন্দ্র সরকার, শ্রী রঞ্জিত কুমার দাস ও শ্রী সুধীর চন্দ্র বর্মন। সাধারণ সম্পাদক শ্রী অঞ্জন কুমার রায়, সহ-সাধারণ সম্পাদক শ্রী সজল চন্দ্র দাস ও শ্রী লিটন চন্দ্র দাস। সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী সঞ্জয় কুমার দাস, কোষাধ্যক্ষ শ্রী রতন চন্দ্র দাস এবং প্রচার সম্পাদক শ্রী বিকাশ চন্দ্র দাস।

উপদেষ্টা মণ্ডলী, কার্যকরী সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় দোগাছিয়া এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়। এমন ধর্মীয় উদ্যোগে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয় এবং এলাকাবাসীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

ঋষি সম্মেলনের গুরুত্ব

ঋষি সম্মেলন এই মহোৎসবের একটি বিশেষ আকর্ষণ। ধর্মীয় দর্শন অনুযায়ী ঋষিরা জ্ঞান, তপস্যা, সংযম ও সত্যের প্রতীক। তাই ঋষি সম্মেলনের মাধ্যমে ভক্তরা ধর্মের গভীর তাৎপর্য অনুধাবনের সুযোগ পান।

বর্তমান সময়ে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে যে অস্থিরতা দেখা যায়, সেখানে এ ধরনের ধর্মীয় আলোচনা মানুষকে নৈতিক পথ দেখায়। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, ভক্তি-ভিত্তিক উপদেশ এবং সাধুসঙ্গ মানুষের মনে শান্তি ও সমতা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।

লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আদর্শ

শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাঙালি হিন্দু সমাজে অতি শ্রদ্ধাভাজন এক আধ্যাত্মিক পুরুষ। তাঁর বাণী ও জীবনদর্শন মানুষকে বিপদের সময় ঈশ্বরের স্মরণ, সত্যের পথে চলা এবং মানবকল্যাণে নিয়োজিত থাকার শিক্ষা দেয়।

আমন্ত্রণপত্রে উদ্ধৃত তাঁর বাণী—“রণে বনে জলে জঙ্গলে যখনই বিপদে পড়িবে, আমাকে স্মরণ করিও, আমিই রক্ষা করিব”—ভক্তদের কাছে আশ্বাস ও বিশ্বাসের এক অমূল্য উৎস। এই বাণী শুধু ধর্মীয় আবেগই নয়, বরং মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাসেরও প্রতীক।

আশ্রমের সামাজিক ভূমিকা

শ্রী শ্রী লোকনাথ উপাসনা আশ্রম ও মন্দির শুধু একটি পূজাস্থল নয়, বরং একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানে নিয়মিত ধর্মীয় চর্চা, আধ্যাত্মিক আলোচনা এবং ভক্তদের মিলনমেলা স্থানীয় সমাজকে সমৃদ্ধ করে।

ধর্মীয় উৎসবগুলো মানুষের মধ্যে একতা, সহানুভূতি এবং শৃঙ্খলা গড়ে তোলে। মহাপ্রসাদ বিতরণ, ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের উপস্থিতি এই উৎসবকে আরও অর্থবহ করে।

উপসংহার

সার্বিকভাবে বলা যায়, দোগাছিয়ার শ্রী শ্রী লোকনাথ উপাসনা আশ্রম ও মন্দিরের এই মহোৎসব একটি স্মরণীয় আধ্যাত্মিক আয়োজন হতে চলেছে। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, ধর্মীয় আলোচনা, ঋষি সম্মেলন এবং ২৪ প্রহর ব্যাপী অখণ্ড তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন—সব মিলিয়ে এটি ভক্তি ও মানবকল্যাণের এক সুন্দর প্রকাশ।

স্থানীয় ভক্তবৃন্দ, অতিথি, কীর্তনীয়া দল এবং পরিচালনা কমিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ আয়োজন সফল হোক—এই কামনাই রইল। শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর কৃপা ও শ্রীকৃষ্ণের নামস্মরণে ভরে উঠুক পুরো অনুষ্ঠান, এমনটাই প্রত্যাশা।

Leave a Comment