পৌষ সংক্রান্তি কী? ইতিহাস, শাস্ত্রীয় গুরুত্ব, আচার ও আমাদের জীবনের শিক্ষা

পৌষ সংক্রান্তি কী? ইতিহাস, শাস্ত্রীয় গুরুত্ব, আচার ও আমাদের জীবনের শিক্ষা

পৌষ সংক্রান্তি হিন্দু ধর্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিথি, যা সূর্যের এক বিশেষ গমন বা রাশিচক্র পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন আধ্যাত্মিক অধ্যায়ের সূচনা করে। এই তিথি শুধু একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, বরং মানবজীবনের গতি, কর্মফল, পূর্বপুরুষ স্মরণ ও আত্মশুদ্ধির এক মহা সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত।[web:9]

‘সংক্রান্তি’ শব্দের অর্থ সঞ্চার, গমন বা এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় প্রবেশ। সূর্য যখন এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে প্রবেশ করে, তখন সেই দিনটিকে বলা হয় সূর্যসংক্রান্তি। পৌষ মাসের শেষ দিনে সূর্য ধনু রাশি ত্যাগ করে মকর রাশিতে প্রবেশ করে, আর এই মাহেন্দ্রক্ষণকেই আমরা বলি পৌষ সংক্রান্তি, মকর সংক্রান্তি বা উত্তরায়ণ সংক্রান্তি।[web:9]

উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ণ: দিবা–রাত্রির মহাজাগতিক ব্যাখ্যা

শাস্ত্রমতে, মানবসমাজের বারোটি মাস দুই ভাগে বিভক্ত—উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ণ। মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র, বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ়—এই ছয় মাসকে উত্তরায়ণকাল এবং শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ ও পৌষ—এই ছয় মাসকে দক্ষিণায়ণকাল বলা হয়। এভাবে এক বছরের চক্রে সূর্যের উত্তরমুখী ও দক্ষিণমুখী গতিকে আধ্যাত্মিক ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে।[web:9]

শাস্ত্রে বলা আছে, মানুষের ছয় মাস দেবতাদের এক দিনের সমান এবং মানুষের ছয় মাস দেবতাদের এক রাত্রির সমান। দক্ষিণায়ণকে দেবতাদের রাত্রি আর উত্তরায়ণকে দেবতাদের দিবাকাল বলা হয়। দক্ষিণায়ণে দেবলোকের কল্যাণকার্য অপেক্ষাকৃত স্তিমিত থাকে এবং উত্তরায়ণ শুরু হলে দেবতাদের দিবাকাল আরম্ভ হয়—তখনই দেবতা ও পিতৃলোকের দিকে শুভফলের পথ বেশি উন্মুক্ত হয় বলে ধারণা।[web:8][web:11]

উত্তরায়ণের সূচনা: কেন এত পবিত্র ধরা হয়?

উত্তরায়ণ শুরু মানে শুধু সূর্যের উত্তরগমন নয়, মানুষের চেতনা, সংকল্প ও সাধনার দিকেও এক উর্ধ্বগামী স্রোত। গীতায় উল্লেখ আছে, যে সাধু ব্যক্তি সূর্য উত্তরায়ণে, দিবাকালে এবং শুভ তিথিতে দেহত্যাগ করেন, তিনি উচ্চলোক বা মুক্তিলাভের বিশেষ সুযোগ পান—এই বিশ্বাস থেকেই উত্তরায়ণকালকে পুণ্যকাল হিসেবে ধরা হয়।[web:8]

এই প্রেক্ষাপটে পৌষ সংক্রান্তি সেই দিন, যেদিন সূর্য দক্ষিণায়ণ ত্যাগ করে উত্তরায়ণের পথে যাত্রা শুরু করে। ফলে এই দিনটি শুধু জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দিক দিয়ে নয়, মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকেও নতুন সূচনা, অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রার প্রতীক। অনেক ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে, উত্তরায়ণকে দেবযানের পথ—অর্থাৎ দেবলোকগামী আত্মার পথ—হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।[web:8][web:14]

দেবতা ও পিতৃপুরুষের জাগরণ: ব্রহ্মমুহূর্তের তাৎপর্য

বিশ্বাস করা হয়, পৌষ সংক্রান্তির ব্রহ্মমুহূর্তে দেবতাগণ ও স্বর্গবাসী পিতৃপুরুষেরা যেন নিদ্রা থেকে জাগ্রত হন। দক্ষিণায়ণের রাত্রি শেষে উত্তরায়ণের প্রথম প্রহরে দেবলোকের কার্যকলাপ পুনরায় উজ্জ্বল হয়—এই ধারণা থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দিনটির সূচনা করেন স্নান, জপ, নামসংকীর্তন ও গীতাপাঠের মাধ্যমে।[web:8][web:15]

এই সময়ে অগণিত ভক্ত গঙ্গা, যমুনা, নর্মদা বা নিকটস্থ পবিত্র নদীতীরে স্নান করে সূর্যদেবকে অর্ঘ্য প্রদান করেন। অনেক স্থানে এই ভোরের স্নানকে ‘মহাস্নান’ বলা হয়, কারণ উত্তরায়ণ শুরুর এই মুহূর্তকে জীবনশুদ্ধি ও পাপক্ষালনের বিশেষ সুযোগ হিসেবে ধরা হয়।[web:9][web:15]

পৌষ সংক্রান্তি, ভীষ্মদেব ও মহাপ্রয়াণের কাহিনি

পৌষ সংক্রান্তির মাহাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে মহাভারতের অমর বীর গঙ্গাপুত্র পিতামহ ভীষ্মদেবের মহাপ্রয়াণের কারণে। ভীষ্মদেব পিতা শান্তনুর কাছ থেকে ইচ্ছামৃত্যুর বিরল বর লাভ করেছিলেন—অর্থাৎ তিনি যখন ইচ্ছা তখনই দেহত্যাগ করতে পারতেন। তবুও তিনি সাধারণ দিনের অপেক্ষায় থাকেননি, অপেক্ষা করেছেন উত্তরায়ণের সূচনার জন্য।[web:8][web:12]

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে দশম দিনে অর্জুনের নিক্ষিপ্ত অসংখ্য বাণে বিদ্ধ হয়ে ভীষ্মদেব শরশয্যায় শায়িত হন। তবুও তিনি দক্ষিণায়ণে দেহত্যাগ না করে দীর্ঘ দিন সেই শরশয্যায় থেকে যান এবং সূর্য যখন উত্তরায়ণমুখী হবেন, সেই পবিত্র সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন। নানা আচারদৃষ্টিতে বলা হয়, তিনি প্রায় আটান্ন দিন শরশয্যায় অবস্থান করার পর উত্তরায়ণ সূচনার প্রাক্কালে যোগবলে দেহত্যাগ করে দেবলোকে গমন করেন।[web:8][web:11]

ভীষ্মের উত্তরায়ণ বরণ: আধ্যাত্মিক শিক্ষা

ভীষ্মদেবের এই কাহিনি সনাতন সমাজকে একটি গাঢ় বার্তা দেয়—জীবন যেমন ধর্মাচরণে ব্যয় করা উচিত, তেমনি মৃত্যুও হওয়া উচিত সচেতন, গ্রহণযোগ্য ও আধ্যাত্মিকভাবে প্রস্তুত। তিনি দেখিয়ে গেছেন, দেহত্যাগও এক ধরনের যোগসাধনা, যা সঠিক সময়, সঠিক মানসিক অবস্থা ও ঈশ্বরস্মরণে সম্পন্ন হলে আত্মার পথ আরও আলোকিত হয়।[web:8][web:14]

শাস্ত্রমতে, উত্তরায়ণে দেহত্যাগকারী সাধুপুরুষেরা উচ্চতর লোকপ্রাপ্তি ও মুক্তির সম্ভাবনা অর্জন করেন—এই বিশ্বাস থেকেই ভীষ্মদেবের মহাপ্রয়াণকে পৌষ সংক্রান্তির সঙ্গে যুক্ত করে বিশেষ মহিমা দেওয়া হয়। ফলে এই তিথি একদিকে সূর্যযাত্রার মোড় বদল, অন্যদিকে মহাবীরের আত্মোদ্ধারের ইতিহাস—দুয়েরই মিলিত প্রতীক।[web:8][web:11]

গ্রামবাংলার আগুন জ্বালানো ও ‘বুড়ির ঘর’ প্রথা

গ্রামবাংলা এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌষ সংক্রান্তির ভোরে খড়কুটো, শুকনো ডালপালা ও বাঁশ দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়। অনেকেই এই আগুনকে ভীষ্মদেবের প্রতীকী চিতারূপে দেখেন; আবার কেউ কেউ এটিকে পুরোনো বছরের অশুভতা, জড়তা ও পাপসংসারের দহন করে নতুন বছরে শুদ্ধভাবে প্রবেশের প্রতীক হিসেবে মানেন।[web:9][web:15]

কিছু জায়গায় এই আগুন জ্বালানোকে ‘বুড়ির ঘর’ বা ‘মেড়ামেড়ির ঘর’ জ্বালানো বলা হয়। মাটি, কঞ্চি ও খড় দিয়ে ছোট ছোট ঘর বানিয়ে তাতে আগুন দেওয়া হয়, শিশুরা আগুন ঘিরে আনন্দ করে, বড়রা প্রার্থনা করেন—যাতে জীবনের সব অকল্যাণ ও দুঃখ ধ্বংস হয়ে নতুন আলো, স্বাস্থ্য ও আধ্যাত্মিক জাগরণ আসে।[web:9]

শাস্ত্রীয় দৃষ্টিতে পৌষ সংক্রান্তি: পিতৃতর্পণ ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কেন্দ্রিক তিথি

অনেকেই মকর সংক্রান্তিকে শুধুই ফসল তোলার উৎসব, পিঠে–পুলি আর আনন্দের দিন হিসেবে দেখলেও শাস্ত্রীয় দৃষ্টিতে পৌষ সংক্রান্তি মূলত পিতৃতর্পণ ও অন্ত্যেষ্টি–সংক্রান্ত একটি বিশেষ তিথি। পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তিল, জল, পিণ্ড ও দান–ধ্যানের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করার জন্য এই দিনটি অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত।[web:8][web:15]

বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ ও পুরাণে উল্লেখ আছে, নির্দিষ্ট তিথিতে পিণ্ডদান ও তর্পণ করলে পিতৃলোকের আত্মারা সন্তুষ্ট হন এবং ভক্তের পরিবারে শান্তি, কল্যাণ ও বাধা–বিপত্তি হ্রাস পায়। একই সঙ্গে এ সময় ব্রাহ্মণ সেবা, গরু–দুগ্ধদান, তিল–দান, বস্ত্রদান ইত্যাদি পুণ্যকর্মেরও বিশেষ ফলবৃদ্ধি হয় বলে বর্ণিত।[web:8][web:13]

সংযম ও খাদ্য–নিয়ম: কেন মাছ–মাংস পরিহার করা হয়?

শাস্ত্রীয় ভাবনায়, পৌষ সংক্রান্তি ভোগ–বিলাসের দিন নয়, বরং সংযম, সত্ত্বিকতা ও আত্মশুদ্ধির দিন। তাই এই তিথিতে অযথা বিলাস, আনন্দোত্সব বা অতি উপভোগকে নিরুৎসাহিত করা হয় এবং মাংস–মদ–মাছসহ তামসিক খাদ্য কঠোরভাবে পরিহারের কথা বলা হয়।[web:13][web:16]

বর্তমান ধর্মাচারে পিতৃতর্পণ, শ্রাদ্ধ বা পুণ্যতিথিতে সাধারণভাবে যেমন নিরামিষ, সত্ত্বিক ও পবিত্র খাদ্যগ্রহণের নিয়ম দেখানো হয়, পৌষ সংক্রান্তিতেও অনুরূপ নীতি অনুসরণ করা হয়—যেমন দুধ, দই, ঘি, ফল, ভাত, ডাল, শস্য, মিষ্টি ইত্যাদি। বহু পঞ্চাঙ্গ ও ধর্মীয় সংগঠন পিতৃতর্পণকেন্দ্রিক দিনে মাংস, মাছ, ডিম, মদ, তামাক, পেঁয়াজ–রসুন ইত্যাদি বর্জনের উপদেশ দিয়ে থাকে।[web:10][web:13][web:16]

স্নান, জপ, দান ও ধর্মকর্ম: আচার–অনুষ্ঠানের রূপরেখা

পৌষ সংক্রান্তির দিন সাধারণত ভোরবেলা পবিত্র স্নানের মাধ্যমে দিন শুরু করা হয়। নিকটস্থ নদী, পুকুর কিংবা গৃহস্থের জলেই হোক, শুচিবস্ত্র পরে ঈশ্বরের নামস্মরণ ও জপ–ধ্যানে বসা এই তিথির অন্যতম প্রধান অনুশাসন।[web:9][web:15]

অনেক ভক্ত এই দিনে গীতা, বিষ্ণু–সহস্রনাম বা সূর্যস্তব পাঠ করেন, ঘরে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, আরতি ও নামসংকীর্তন হয়। সাথে সাথে অন্ন–বস্ত্র–তিল–গুড়–মিষ্টান্ন ইত্যাদি গরিব, ব্রাহ্মণ বা আশ্রমে দান করার প্রথা বহু যুগ ধরেই প্রচলিত আছে। কোথাও কোথাও এই তিথিতে গৃহলক্ষ্মী, গরু ও ভূমিদেবীকে প্রণাম ও পূজা করারও রীতি দেখা যায়।[web:9][web:15]

ভারতের বিভিন্ন স্থানে মকর সংক্রান্তি: বৈচিত্র্যের মধ্যে একতা

ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে এই তিথি নানা নামে ও ভঙ্গিতে পালিত হয়—গুজরাতে ‘উত্তরায়ণ’, পাঞ্জাবে ‘মাঘি’, আসামে ‘ভোগালী বিহু’, তামিলনাডুতে ‘পোঙ্গল’, মহারাষ্ট্রে ‘তিল–গুল’ উৎসব ইত্যাদি। নাম ও আচার বদলালেও মূল বিষয় একই—সূর্যদেবের প্রতি কৃতজ্ঞতা, নতুন ফসলের আনন্দ, দান–ধর্ম ও পারিবারিক মিলন।[web:9][web:15]

বহু স্থানে এই দিনে ঘুড়ি ওড়ানো, তিল–গুড়ের লাড্ডু, খিচুড়ি, পোঙ্গল ইত্যাদি বিশেষ খাদ্য তৈরি, বড়দের প্রণাম, বোন–ঝিয়েদের উপহার দেওয়া, দরিদ্রদের ভোজ খাওয়ানো—এসব সামাজিক আচার প্রচলিত। আঞ্চলিক বৈচিত্র্য থাকলেও উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো—মধুরতা, মিলন, দান ও আলোর দিকে যাত্রা।[web:9][web:15]

শুধু উৎসব নয়, এক আধ্যাত্মিক পাঠশালা

যদি গভীরভাবে দেখা যায়, পৌষ সংক্রান্তি কেবল সূর্যসংক্রান্তি বা ফসল উৎসব নয়, বরং মানুষের অন্তর্জগৎকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার এক আধ্যাত্মিক পাঠশালা। দক্ষিণায়ণের প্রতীকী অন্ধকার, জড়তা, অলসতা, পাপাচার—সবকিছুকে পিছনে ফেলে উত্তরায়ণে আলো, শুচিতা, সাধনা ও সৎকর্মের পথ বেছে নেওয়ার একটি দৃঢ় সংকল্পের দিন এটি।[web:8][web:14]

এই তিথিতে পিতৃপুজা আমাদের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, দেবতার জাগরণ আমাদের জীবনে ধর্মচেতনা জাগিয়ে তোলে, সংযম ও সত্ত্বিক খাদ্য আমাদের শরীর–মনকে সুস্থ রাখে। ভীষ্মদেবের মহাপ্রয়াণ আমাদের শিক্ষা দেয়—জীবন যতই সংগ্রামে ভরা হোক, শেষ পর্যন্ত সত্য, ধর্ম ও ঈশ্বর–স্মরণই মানুষের প্রকৃত আশ্রয়।[web:8][web:11]

আধুনিক প্রেক্ষাপটে পৌষ সংক্রান্তি: আমাদের কী করা উচিত?

আজকের ব্যস্ত, যান্ত্রিক জীবনে হয়তো আমরা পুরো আচার–বিধি পালন করতে পারি না, তবুও এই তিথিকে অর্থবহ করতে কিছু সহজ কাজ করা সম্ভব। যেমন—ভোরে বা সুবিধাজনক সময়ে স্নান করে সূর্যদেবকে প্রণাম করা, অন্তত একবার গীতা, গায়ত্রী বা সূর্য–মন্ত্র জপ করা, প্রয়োজনমতো দান করা এবং সেদিন নিরামিষ, সত্ত্বিক খাবার গ্রহণের চেষ্টা করা।[web:15][web:16]

পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রণাম, পিতৃপুরুষের জন্য শ্রদ্ধার মনে এক মিনিট নীরবতা, প্রয়োজনে গরিব–দুঃখীদের পাশে দাঁড়ানো—এসব ছোট ছোট কাজও পৌষ সংক্রান্তির সত্যিকারের চেতনা ধারণ করতে সহায়তা করে। উৎসবের বাহ্যিকতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মন–মানসিকতার পরিবর্তন, যে পরিবর্তন মানুষকে আরও মানবিক, আরও ধর্মবোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল করে তোলে।[web:8][web:15]

পৌষ সংক্রান্তির প্রার্থনা ও শুভেচ্ছা

প্রায় পাঁচ হাজার বছর ধরে সনাতন সমাজ শাস্ত্রসম্মত ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে মকর সংক্রান্তি বা উত্তরায়ণ পালন করে আসছে—সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আচার পাল্টেছে, অঞ্চলভেদে নাম বদলেছে, কিন্তু এর আধ্যাত্মিক মর্ম কখনও পরিবর্তিত হয়নি। এই তিথি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সূর্য যেমন অন্ধকার ভেদ করে আলোর বার্তা নিয়ে আসে, তেমনি মানুষও নিজের জীবনকে পাপ, অজ্ঞান ও হতাশার অন্ধকার থেকে তুলে এনে জ্ঞান, ভক্তি ও সৎকর্মের আলোতে ভরিয়ে তুলতে পারে।[web:9][web:14]

এই পুণ্য তিথিতে সকলের জীবনে আসুক মঙ্গল, শান্তি ও ধর্মবোধ—এই কামনায় পৌষ সংক্রান্তির প্রতি অগাধ প্রণাম জানিয়ে বলা যায়, প্রত্যেক মানুষের ভিতরকার সূর্য যেন জেগে উঠুক, আমাদের ঘর–সংসার, সমাজ ও দেশ আলোকিত হোক সত্য, ন্যায় ও প্রেমের আলোয়।

✍️ লেখক: রঞ্জিত বর্মন

Leave a Comment